আল্লাহ বলেনেনি ‘কষ্টের পর স্বস্তি আসে’।


আল্লাহ বলেনেনি ‘কষ্টের পর স্বস্তি আসে’। তিনি 'পর' শব্দটি ব্যবহার করেননি। তিনি 'সাথে' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। 'সাথে' এবং 'পর' শব্দের মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। তাই 'কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে' এবং 'কষ্টের পর স্বস্তি রয়েছে' বলার মাঝে বড় পার্থক্য রয়েছে।
একটি পার্থক্য হচ্ছে—হয়ত আপনি যখন একটি সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন, সেই সমস্যাটি সাথে করে কিছু স্বস্তির বিষয়ও আপনার জীবনে নিয়ে এসেছে, যা আপনি উপলব্ধিও করতে পারেননি। একটি সমস্যা হয়ত আরও কুড়িটি সমাধানের পথ উন্মুক্ত করে দেয়। আরও অগণিত সমাধানের পথ খুলে দেয়। তাই ঐ স্বস্তিদায়ক বিষয়গুলো আসার জন্য এই সমস্যাটি ঘটার দরকার ছিল। এটি আল্লাহর সুবিজ্ঞ পরিকল্পনার অংশ। আমরা হয়তো তা শনাক্ত করতে পারি না। কিন্তু এটা সবসময় থাকে।
জীবনে আমরা যত ভয়ানক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাই, তখন আমরা এভাবে প্রশ্ন করি—"আমাকে কেন এই বিপদে ফেলা হল? আমার সাথে কেন এমন হচ্ছে? আমি কী এমন অন্যায় করেছি? এর থেকে ভালো কী আসবে?" আপনাদের বলছি: ঐ অভিজ্ঞতাগুলোর প্রত্যেকটাই কোনো না কোনো সহজতা, স্বস্তি বা ভালো সাথে করে নিয়ে আসে যা আমরা দেখতে পাই না। কিন্তু আল্লাহ বলছেন ঐ স্বস্তি সাথেই আছে। তোমাকে এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এটা একই সময়ে কষ্টের সাথে সহাবস্থান করে। একই সময়ে কষ্টের সঙ্গেই এই স্বস্তির অবস্থান। “নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।”
এছাড়াও, যখন 'সাথে' শব্দটি ব্যবহার করা হয়, আল্লাহ বলছেন যে স্বস্তিকে কষ্টের সাথে রাখা হয়েছে। যেভাবে তিনি রাতকে দিনের সাথে রেখেছেন। যেভাবে মেঘমালাকে তিনি বৃষ্টির সাথে রেখেছেন। অনেক জিনিস আছে যেগুলো তিনি একত্রে রেখেছেন। এই জীবনে আল্লাহ যা করার সিদ্ধান্ত নিলেন: আমি আর আপনি যদি স্বস্তি পেতে চাই, তিনি ব্যাপারটাকে এমনভাবে সাজালেন, আপনাকে এর জন্য প্রথমে কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
-উস্তাদ নোমান আলী খান, সূরা ইনশিরাহ
Previous Post Next Post